মৎস্য রপ্তানিতে আস্থা ফেরাতে ই-ট্রেসেবিলিটি অপরিহার্য

রাজধানী প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের মৎস্যপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা পুনরুদ্ধারে ই-ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, মাননিয়ন্ত্রণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ই-ট্রেসেবিলিটির বিকল্প নেই।

আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১২টায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) এর সম্মেলন কক্ষে “মৎস্য রপ্তানি প্রসারে ই-ট্রেসেবিলিটি” শীর্ষক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) এবং ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ফোয়াব) এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ই-ট্রেসেবিলিটি পাইলট প্রকল্পের অর্জন তুলে ধরতেই এই প্রকাশনাটি উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আবদুর রহিম খান, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি), বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও প্রশাসক, এফবিসিসিআই। তিনি বলেন, ই-ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে মৎস্যখাতে রপ্তানি ঝুঁকি কমবে, আন্তর্জাতিক মান বজায় থাকবে এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি টেকসই মৎস্য উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনাবা নাহিদ আফরোজ, যুগ্মসচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; ড. সৈয়দ আরিফ আজাদ, সাবেক মহাপরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর ও উপদেষ্টা, ফোয়াব।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব মোল্লা সামছুর রহমান সাহীন, সভাপতি, ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ফোয়াব)। তিনি বলেন, ই-ট্রেসেবিলিটি পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাছের উৎস, চাষ পদ্ধতি, খাদ্য ও ওষুধ ব্যবহারের তথ্য, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পরিবহন সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও যাচাই করা সম্ভব হবে। যা ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ উন্নত দেশের বাজারে প্রবেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনাব ড. মোঃ রাজ্জাকুল ইসলাম, উপসচিব ও পরিচালক, বিপিসি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ই-ট্রেসেবিলিটি পাইলট প্রকল্পের কারিগরি দিক, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও অর্জন নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন মৎস্যবিদ মোঃ মনিরুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক, ই-ট্রেসেবিলিটি পাইলট প্রকল্প, ফোয়াব এবং মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান, আইটি কনসালটেন্ট, ফোয়াব।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ, আইন উপদেষ্টা, ফোয়াব; অশোক কুমার বিশ্বাস, পরিচালক, বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় লিমিটেড; জসিম উদ্দিন খাজা, আহ্বায়ক, খুলনা জেলা আঞ্চলিক কমিটিসহ বিভিন্ন ট্রেড এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিবৃন্দ, ফোয়াবের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ই-ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা সারাদেশে বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের মৎস্য রপ্তানি খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান সুদৃঢ় হবে।