
ইসলামিক ডেস্ক: পরম করুণাময় মহান আল্লাহ তায়ালা এই মহাবিশ্বের একমাত্র অধিপতি। একজন মুমিনের জীবনের চূড়ান্ত সফলতা ও প্রশান্তি নির্ভর করে আল্লাহর একত্বের ওপর অটল বিশ্বাসের মাধ্যমে। পবিত্র কুরআনের সূরা আয-জুমারের ৪৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, "বলো, সকল সুপারিশের মালিক একমাত্র আল্লাহ। আকাশ ও পৃথিবীর সার্বভৌম রাজত্ব একমাত্র তাঁরই। তারপর তোমরা তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তিত হবে।"
এই আয়াতটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পরকালে মুক্তির জন্য কোনো মাধ্যম নয়, বরং আল্লাহর অনুগ্রহই একমাত্র কাম্য। সৃষ্টিজগতের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় থেকে শুরু করে আসমান-যমিনের বিশালতা সবই তাঁর হুকুমের অধীন। যখন একজন মুমিন বিশ্বাস স্থাপন করে যে তাঁর সকল প্রার্থনা শোনার এবং সুপারিশ গ্রহণ করার ক্ষমতা কেবল আল্লাহর, তখন তাঁর ঈমান হয় সুদৃঢ় এবং শিরকমুক্ত।
আল্লাহর এই সার্বভৌমত্বের প্রতিফলন কেবল পরকালেই নয়, বরং দুনিয়াবী জীবনে আমাদের রিযিক ও জীবিকার ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য। সূরা আয-জুমারের ৫২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, "তারা কি জানে না যে, আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করে দেন এবং যার জন্য ইচ্ছা সংকুচিত করে দেন? নিশ্চয়ই এতে মুমিনদেরর জন্য নিদর্শন রয়েছে।" এই আয়াতের নিগূঢ় অর্থ হলো, মানুষের ধন-সম্পদ বা অভাব কেবল তার নিজস্ব শ্রমের ফল নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। আল্লাহ যখন কাউকে প্রাচুর্য দেন, তখন তা তাঁর শুকরিয়া আদায়ের পরীক্ষা; আর যখন রিযিক সংকুচিত করেন, তখন তা সবরের (ধৈর্যের) পরীক্ষা।
এই দুই আয়াতের সমন্বিত শিক্ষা হলো ক্ষমতা ও সম্পদ সবকিছুর উৎস আল্লাহ। দুনিয়াবী জীবনে রিযিকের টানাপোড়েনে হতাশ না হয়ে এবং পরকালে মুক্তির আশায় অন্য কারো ওপর নির্ভর না করে মুমিনদের উচিত কেবল আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা। আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে মনে-প্রাণে স্বীকার করে এবং তাঁর বণ্টন করা রিযিকে সন্তুষ্ট থেকে একজন মুসলিম তার ঈমানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। জীবনের সকল সংকটে এবং প্রাপ্তিতে আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থাই হলো প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।
























