ড. মো. আনোয়ার হোসেন:আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি । কৃষিবিদ দিবস। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষিই আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। কৃষিকে ঘিরেই এদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। সকল ক্ষেত্রেই কৃষির প্রভাব দৃশ্যমান । স্বাধীনতা পরবর্তী প্রত্যেকটি সবকার প্রধানের দায়িত্ব ছিল কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। দেশে এখন ভাতের অভাব নেই। এটি আমাদের জাতীয় জীবনের একটি অসামান্য অর্জন। এ অর্জনের নেপথ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার সঙ্গে বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি সহায়তা, বিজ্ঞানী ও সম্প্রসারণ কর্মীদের তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

কামরুল হাসান কামু:যে ব্রত নিয়ে ১৯৪৭ সালে দেশভাগ হয়েছিলো,দীর্ঘসময়ে তার কোন প্রতিফলন ঘটেনি বরং পূর্বপাকিস্তানের মানুষদের ওপর পশ্চিমাদের শোষন-পেষণের চিত্রপট ছিলো ভয়ানক।পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর নীলথাবায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে পূর্ববাংলার কৃষকশ্রেণী। সোনারমতো খাঁটি,উর্বরা ভূমি ছিলো অথচ এদেশের মানুষ দুইবেলা পেটভরে খেতে পারতোনা। প্রকৃতি নির্ভর কৃষিব্যবস্থা বিরাজমান ছিল। আদতে খরা,বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার অভাবে অধিকাংশ জমি ছিলো এক ফসলি উপরন্তু স্থানীয় জোতদার ও আধা-সামন্ত গোষ্ঠীদের আচরণে এদেশের বর্গাচাষীদের অবস্থা নাজুক ছিলো।এসমস্ত চিত্রের মধ্য থেকে চূড়ান্ত উত্তরণে মুক্তির দিশারী ছিলেন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর:কৃষি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী ব্যক্তিকে কৃষিবিদ বলা হয়। কৃষিবিদদের জন্য জাতীয়ভাবে আমাদের দেশে একটি আলাদা দিবসের প্রচলন হওয়াতে আমরা কৃষিবিদরা গর্বিত। যতই দিন যাচ্ছে ততই বাংলাদেশের কৃষিখাত গুরুত্ব পাচ্ছে। আর কৃষিখাত গুরুত্ব পাওয়া মানেই কৃষিবিদদের জন্য গৌরবের। কারণ আজ বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে যে প্রভূত‚ত উন্নতি সাধিত হয়েছে তার পুরোটার কৃতিত্বই কৃষিবিদদের। কৃষিবিদ একটি মহান পেশা। এ পেশায় বাংলাদেশের মাটির গন্ধ মিশে রয়েছে। এ পেশা দেশের কৃষিকে পরিচালিত করছে। করছে দেশের কৃষককুলকে। দেশের খাদ্য উৎপাদনে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করে চলেছে। কেউ গবেষণায়, কেউ সম্প্রসারণে, কেউ প্রশিক্ষণে, কেউ শিক্ষায় ব্যাপক অবদান রেখে চলেছেন।

প্রফেসর ড. মো. আজহারুল ইসলাম:বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি শুরু করেন যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়ার কাজ। দেশ পুনর্গঠনে দূরদর্শিতার পরিচয় দেন তিনি, যার মধ্যে প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধে বৃক্ষসম্পদের যে ক্ষতি হয়েছিল তা থেকে উত্তরণের দেশজুড়ে বঙ্গবন্ধু শুরু করেন বৃক্ষরোপণ অভিযান। গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করেন জনগণকে। এজন্য গণভবন এবং বঙ্গভবনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে রোপণের উদ্যোগ নেন।

ডাঃ শাহজাহান সিরাজ,DVM:পোল্ট্রি  শব্দটি বহুল প্রচলিত একটি শব্দ, যার মাধ্যমে সাধারণত আমরা মুরগিকে বুঝি। অথচ পোল্ট্রি বিজ্ঞানে পোল্ট্রি বলতে শুধু মুরগিকে বুঝানো হয় না, বরং যে সমস্ত পাখিকে মানুষের অধীনে বাণিজ্যিকভাবে লালন-পালন ও প্রজনন করানো যায় তাদের সবাইকে একত্রে পোল্ট্রি বলা হয়। ১১ প্রকার পাখিকে পোল্ট্রির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেমন হাঁস, মুরগি, টার্কি, কবুতর, তিতির, রাজহাঁস, কোয়েল ইত্যাদি।

খসরু মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন, সিকৃবিঃপৃথিবীতে মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম হলেও কার্যকরী ভ্যাক্সিনের অভাবে প্রতিবছর বিভিন্ন রোগে প্রচুর পরিমাণ মাছে মড়ক দেখা দেয়। ফলে মৎস্য উৎপাদন কমার পাশাপাশি মৎস্য চাষীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মাছের মড়ক থেকে রেহাই পেতে প্রথমবারের মতো বানিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার উপযোগী মাছের ভ্যাক্সিন উদ্ভাবন করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস বিজ্ঞান অনুষদের মৎস্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী প্রফেসর ড. মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন।