কম্বাইন্ড ডিগ্রিকে পশুপালন ডিগ্রির সমমান করে বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে বাকৃবিতে বিক্ষোভ মিছিল

বাকৃবি প্রতিনিধি:চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কম্বাইন্ড ডিগ্রিকে (পশু চিকিৎসা ও পশুপালন) পশুপালন ডিগ্রির সমমানের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন অনুষদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। চলমান ক্লাস পরীক্ষা বর্জনসহ অনুষদ ভবন এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেই ওই অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

আজ বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচে আন্দোলন করতে দেখা যায় পশুপালন অনুষদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের। এসময় তারা কম্বাইন্ড ডিগ্রি বাতিলেরও দাবি জানান। দাবি আদায় না হলে প্রশাসনকে অচল করে দেওয়ার হুশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

জানা যায়, গত ৪ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্কভিটা) ৬১ পদের জন্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে ১নং (প্রাণি চিকিৎসক) এবং ২নং (উৎপাদন/পশু প্রজনন/ সিডিটি/ সমিতি) পদে আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা যথাক্রমে ডিভিএম/ ভেটেরিনারি সায়েন্স এবং পশুপালন/ ডেইরি সায়েন্স/ পশু প্রজনন উল্লেখ করা হয়। কিন্তু গত ২৬ই সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক সংশোধনী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় ওই দুই পদের সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে পশু চিকিৎসা ও পশুপালন বিষয়ে কম্বাইন্ড ডিগ্রিকেও বিবেচনা করা হবে। আবেদনের সময়সীমার শেষের দিকে এসে রাতারাতি এই ধরনের পরিবর্তনে ক্ষুব্ধ হয়ে পশুপালন অনুষদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে অংশ নেন। এসময় প্রশাসনিক ভবনের সামনে টায়ার পুড়িয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের।



বিক্ষোভ পরবর্তী অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের (মিল্কভিটা) এক সংশোধনী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে পশু চিকিৎসা ও পশুপালন বিষয়ে কম্বাইন্ড ডিগ্রিকে সমমান বিবেচনা করে অনলাইন আবেদনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে বলা হয়। যা অত্যন্ত অবান্তর সিদ্ধান্ত। কারণ দুটি ডিগ্রি সম্পূর্ণ আলাদা। কম্বাইন্ড ডিগ্রির ফলে পশুসম্পদ সেক্টরটির অগ্রযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বিএসসি ভেটেরিনারি সায়েন্স এন্ড এনিম্যাল হাজবেন্ড্রি’ নামে কম্বাইন্ড ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। অপরদিকে বাকৃবি ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শুধু পশুপালন ডিগ্রিতে প্রাণির উৎপাদন সম্পর্কিত কোর্সে শতকরা যথাক্রমে ৭৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ ও ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ ক্রেডিট হারে পড়াশোনা করানো হয়ে থাকে। অন্যদিকে কম্বাইন্ড কোর্সে প্রাণি উৎপাদন সম্পর্কিত ক্রেডিটের হার মাত্র ৩০ দশমিক ৩২ শতাংশ।



পশুপালন ও ভেটেরিনারির ডিগ্রি একত্রে করে যে কম্বাইন্ড ডিগ্রি দেওয়া হয় তার সাথে শুধুমাত্র ভেটেরিনারি অনুষদের কোর্স কারিকুলাম ও সিলেবাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, উভয় কোর্স থেকে মূলত পশু চিকিৎসা নিয়ে জ্ঞানার্জন করে থাকে। পশুপালন নিয়ে তারা সাপ্লিমেন্টারি কোর্স হিসেবে অতি সামান্য পড়াশোনা করে থাকে। এ দেশে পোল্ট্রি খাতে বিশেষত ডিম ও ব্রয়লার উৎপাদনে আজ যে বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে তা পশুপালন গ্রাজুয়েটদেরই অবদান। এদেশে বিপুল জনগোষ্ঠীর প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মেটানোর জন্য এবং বর্তমান সরকারের ঘোষিত ‘ভিশন-২০৪১’ এবং জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত এসডিজি বাস্তবায়নে পশুপালন গ্রাজুয়েটদের ভূমিকা অগ্রগণ্য।

পশুপালন ছাত্রসমিতির সহ-সভাপতি মো. রেজওয়ান উল আমিন বলেন, ডিভিএম ডিগ্রিধারীরা যেমন ভেটেরিনারি কাউন্সিল থেকে রেজিষ্ট্রেশন পায় ঠিক তেমনি বি.এস.সি ভেট সায়েন্স এন্ড এ.এইচ (কম্বাইন্ড) ডিগ্রিধারীরা ভেটেরিনারি রেজিষ্ট্রেশন পায়। সেক্ষেত্রে স্পষ্টত দুইটা ডিগ্রি আলাদা কিছু নয়। সুতরাং এনিমেল হাজবেন্ড্রি ডিগ্রির সমতুল্য কোন ডিগ্রি বাংলাদেশে নাই। তাই অবিলম্বে মিল্ক ভিটার সার্কুলারের ২ নং এ যে অযৌক্তিক সংশোধনী দেওয়া হয়েছে তা প্রত্যাহার করা হোক। নাহলে এর বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মুহাম্মদ মহির উদ্দীন বলেন, আমি যতদূর জানি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের জন্য চিঠি পাঠাবে। আগামীকাল পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল মিল্কভিটায় যাবে।