আদমদীঘিতে সমলয়ে চাষাবাদের ব্লক প্রদর্শনীতে ধান কর্তনের উদ্বোধন

মো.এমদাদুল হক:বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় কম্বাইন্ডহার্ভেস্টারের সাহায্যে ধান কর্তন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ মে মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের ছাতনী প্রান্নাথপুর গ্রামে কম্বাইন হার্ভেস্টারের সাহায্যে ধান কর্তন কার্যক্রম অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শুভ উদ্বোধন করেন আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম খান রাজু।

সমলয়: শিল্পায়নের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দুই কারণেই কয়েক দশক ধরে মানুষ শহরমুখী। তাই প্রতিনিয়ত কমছে কৃষিকাজের লোক। ফসল কাটার সময় শ্রমিকসংকট হচ্ছে প্রতিবছর ধরে নেওয়া হচ্ছে সংকট আরও বাড়বে  কমবে না। এ সমস্যার একটা সমাধান হতে পারে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ। আধুনিক কৃষি যন্ত্রগুলো অল্প সময়ে অনেক বেশি কাজ করে। আর এগুলো চালনার জন্য জনবল লাগে অতি অল্প। কোনো একটি এলাকায় কোনো একটি কৃষিপণ্য চাষের পুরো প্রক্রিয়াকে যদি একই সিস্টেমের নেওয়া হয়, তাহলে জমির সীমান বা আল বজায় রেখেও লাভজনকভাবে কৃষি যন্ত্র ব্যবহার করা যায়। বোরো চাষে এ রকমেরই একটা কার্যকরী উপায় বের করেছেন কৃষিবিজ্ঞানীরা। পদ্ধতিটির নাম দিয়েছেন তাঁরা সমলয়।

নতুন এ পদ্ধতিতে বীজতলা থেকে ফসল কাটা, সবই এক সময়ে একযোগে করা হয়। স্বল্প মানুষের সাহায্যে কাজটা করা হয় কৃষি  যন্ত্রের মাধ্যেমে। জমির অপচয় রোধে এপদ্ধতিতে প্রচলিত রীতিতে বীজতলা তৈরি না করে প্লাস্টিকের ফ্রেম বা ট্রেতে চারা তৈরি করা হয়। ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে চারা তৈরি হয়। তারপর রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ করা হয়। একটা ট্রান্সপ্ল্যান্টার এক ঘণ্টায় এক একর জমিতে চারা লাগাতে পারে, বেঁচে যায় সাড়ে চার হাজার টাকা। চারা একই গভীরতায় সমানভাবে লাগানো যায়। একই সময় রোপণ করায় নির্দিষ্ট এলাকায় সব ধান পাকেও একই সময়। মেশিন দিয়ে একই সঙ্গে সব ধান কাটা ও মাড়াই করা যায়। আর বড়সড় পরিসরে হয় বলে সব প্রক্রিয়াতেই যন্ত্রের ব্যবহার হবে সাশ্রয়ী।

চলতি মৌসুমে আদমদিঘী উপজেলায় ৫০ একর জমিতে প্রণোদনা কর্মস‚চির আওতায় সমলয় মাধ্যেমে গত ২১-২৩ ডিসেম্বর ২০২০ ইং ট্রেতে বপনকৃত বীজ থেকে উৎপন্ন ২৯ দিন বয়সের চারা রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের সাহায্যে গত ১৯ জানুয়ারি ২০২১ ইং রোপণের পর ১০৭তম দিনে ধান কর্তন করা হয়। বীজ বপন থেকে কর্তন পর্যন্ত ১৩৬ দিন সময় লাগে। জাত এসিআই হাইব্রিড ধান- ৬। সমলয় পদ্ধতি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে উৎপাদন বাড়বে। তার চেয়ে বড় কথা, শ্রমিক কম লাগবে কৃষি খাতে যে শ্রমিক সংকট হয়, তা কাটবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা শারমিন। এ সময় আরোও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মিঠু চন্দ্র অধিকারী, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার সুজয় পাল, কৃষি স¤প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ দিপ্তী রানী রায়, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. আমির হোসেন, সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. এরশাদুল হক টুলু, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল আহসান কাঞ্চন প্রমুখ।