অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম: কৃষিক্ষেত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের কৃষিতে এক দীর্ঘমেয়াদি ও যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করে। অন্যান্য টেকনিক্যাল গ্রাজুয়েট যেখানে সরকারি চাকরিতে প্রথম শ্রেণির মর্যাদায় যোগদান করতেন, সেখানে কৃষি গ্রাজুয়েটদের সরকারি চাকরিতে দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদায় যোগদান করতে হতো। একই দেশে টেকনিক্যাল গ্রাজুয়েটদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কর্মক্ষেত্রে এক জটিল ও বহুমাত্রিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছিল। কৃষিশিক্ষা, কৃষি গবেষণা, কৃষি সম্প্রসারণসহ কৃষির সর্বক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। পাকিস্তান সরকার আমাদের কৃষির উন্নতি হোক, সে বিষয়ে ভীষণ রকম উন্নাসিক ছিল। সে কারণে বিভিন্ন প্রকার টেকনিক্যাল গ্রাজুয়েটদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। তা ছাড়া কৃষিকে তারা তেমন গুরুত্বই দেয়নি।

অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ: বঙ্গবন্ধু কন্যার সুযোগ্য নেতৃত্বে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনে ১ম, পাট রপ্তানিতে ১ম, ধান উৎপাদনে ৩য়, স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে ৩য়, সবজি উৎপাদনে ৩য়, আম উৎপাদনে ৭ম, আলু উৎপাদনে ৭ম, পেয়ারা উৎপাদনে ৮ম, চা উৎপাদনে ৯ম স্থানে বিশ্বপরিমণ্ডলে সমাদৃত। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সাড়ে ৭ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান দেয়া ছিল কষ্টসাধ্য ব্যাপার। যেখানে বর্তমানে প্রায় ১৭ কোটি মানুষের খাদ্যের সংস্থান করেও বাংলাদেশ এখন খাদ্য উদ্বৃত্তের গর্বিত দেশ।

অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী: বাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। আজ ১৮ আগস্ট বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। উচ্চতর কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র এবং জাতীয় আশা-আকাঙ্খার প্রতীক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আজ ৬৩তম বর্ষে পদার্পণ করছে- এটি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্যে পরম আনন্দ ও গৌরবের। এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন।

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি: বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণসহ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা দিবস বাস্তবায়ন কমিটি।

 

বাকৃবি প্রতিনিধি: দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষি শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে গৌরব ও মর্যাদার ৬২ বছর পার করে ৬৩ তে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। বাংলাদেশের কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে সেই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই। ব্রহ্মপুত্র নদের ধার ঘেঁষে ১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট প্রায় সাড়ে ১২শ একর জমির উপর গড়ে উঠেছিল দেশের কৃষি শিক্ষার এই আতুড়ঘর।

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শুধু একজন ব্যক্তি নয়, একটি আদর্শ। তিনি দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সারাজীবন ব্যয় করে গেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান নামের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন পূরণের ইতিহাস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও শেখ মুজিবুর রহমান এই দুটি শব্দ একটি আরেকটির পরিপূরক। বঙ্গবন্ধু সতত-সমুজ্জ্বল, সর্বত্র বিরাজমান।