বগুড়া'য় “পার্টনার” প্রকল্পের আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

Category: এগ্রিবিজ এন্ড টেক্ Written by Shafiul Azam

মোঃ গোলাম আরিফ: বগুড়ায় “Program on Agricultural and Rural Transformation for Nutrition, Entrepreneurship and Resilience in Bangladesh (PARTNER)” প্রকল্পের আঞ্চলিক কর্মশালা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ০৭ এপ্রিল ২০২৬ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুস সাত্তার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিচালক বলেন, এক সময় আমাদের দেশের কৃষি ছিলো সনাতন পদ্ধতির খোরপোশের কৃষি। পার্টনার এর মতো উন্নয়ন প্রকল্প আসার ফলে কৃষি এখন লাভজনক ও বাণিজ্যিককরণে রূপান্তরিত হচ্ছে। নিরাপদ ও পুষ্টিকর ফসল উৎপাদন এবং বিপননে লাগসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, উপযুক্ত কৃষি উপকরণ বিতরণ, সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিতে উত্তম কৃষি চর্চার বিকল্প নেই। উত্তম কৃষি চর্চার নীতিমালা অনুসরণের মাধ্যমে ৫ টি ফল ও ১০ টি সবজি বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। “পার্টনার” কৃষি খাতের একটি মেগা প্রকল্প। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে কৃষি খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটবে। বাংলাদেশের কৃষি আরও টেকসই, নিরাপদ ও লাভজনক হবে। এজন্য সকল বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রতি আহবান জানান।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য এবং প্রকল্পের কার্যক্রম ও অগ্রগতি বিষয়ক উপস্থাপনা করেন পার্টনার প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (পিসি) আবুল কালাম আজাদ; কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী, পাবনা’র অধ্যক্ষ কৃষিবিদ মোঃ মতলুবর রহমান ও আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসার রাজশাহী কৃষিবিদ ড. মো. মোতালেব হোসেন ।

কর্মশালায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি বিপনন অধিদপ্তর, বগুড়া জেলা ও পাবনা সদর উপজেলা প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অগ্রগতি পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। এ সময় নিরাপদ ও পুষ্টিকর ফসল উৎপাদনে উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ও উত্তম কৃষি চর্চার সম্প্রসারণ; বারি ও ব্রি উদ্ভাবিত নতুন নতুন পুষ্টিসমৃদ্ধ, রোগ, লবনাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন এবং সম্প্রসারণে প্রজনন বীজ উৎপাদন ও বিতরণ; পানি সাশ্রয়ী সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন; স্মার্ট কৃষি কার্ড প্রদান; কৃষক সেবা কেন্দ্র; কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণ প্রদান; তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি; অংশীজনদের প্রশিক্ষণ এবং উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত ফসলের সাপ্লাই চেইন উন্নয়ন বিষয়গুলোর গুরুত্ব পায়।

কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা, উৎপাদক, রপ্তানিকারক, বীজ ও বিসিআইসি সার ডিলার, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ প্রায় ২০০ জন অংশগ্রহণ করেন।