দেশের প্রথম হাই-টেক ডেইরি ফার্মের যাত্রা শুরু করলো ইয়ন বায়ো-সায়েন্স লি:

এগ্রিলাইফ ডেস্ক:দেশের প্রথম হাইটেক ডেইরি ফার্মের যাত্রা শুরু করলো ইয়ন গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইয়ন বায়ো-সায়েন্স লি:। রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলায় এই হাই-টেক ডেইরি ফার্ম স্থাপন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া থেকে দুইশত পঁচিশ (২২৫) টি উন্নত জাতের গর্ভবতী গাভী সফলভাবে আমদানি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) এটলাস (ATLAS) কার্গো বিমানে করে অস্ট্রেলিয়ার মেলর্বোন এয়ারপোর্ট থেকে ভোর সাড়ে ৫টায় হযরত শাহ জালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে আগে গাভীগুলো। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গাভীগুলোকে ফার্মে নিয়ে আসা হয়। বিমানে করে এভাবে গাভী নিয়ে এসে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির সন্নিবেশন ঘটিয়ে এই ডেইরি ফার্ম এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ ধরনের প্রকল্প বাংলাদেশে প্রথম বলে জানিয়েছে ইয়ন কর্তৃপক্ষ।

ইয়ন বায়ো সায়েন্স তারা পাঁচ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ঘুরে খামার পরিদর্শন করেছে। এরপর উন্নত প্রযুক্তির খামার গড়ে তুলেছে। সে অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়া থেকে উন্নত জাতের গাভি আমদানির জন্য সরকারের অনুমোদন নেয় তারা।

এ হাই-টেক্ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেইরী ফার্মে সুইডেনের ডি লেভেল কর্তৃক তৈরীকৃত নকশা অনুযায়ী গবাদি প্রাণির বাসস্থান নির্মাণ সম্পন্ন করার পাশাপাশি দুগ্ধ দোহনের জন্য স্বয়ংক্রিয় মিল্কিং পারলার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া খামারে উৎপাদিত দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে ডেইরি পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গবাদি প্রাণির খাদ্য উৎপাদনের জন্য ২৫০ একর জমিতে ভূট্টা চাষ করতঃ সাইলেজ তৈরীর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। খামার ব্যবস্থাপনার জন্য নেদারল্যান্ডের অভিজ্ঞ ডেইরি খামার বিশেষজ্ঞ মি: ফ্রাঙ্ক বাইজোকে খামার ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।



সাইলেজ তৈরীর জন্য যাবতীয় সরঞ্জাম কানাডা থেকে আমদানি করা হয়েছে যাতে গাভীকে সারা বছর কাঁচা ঘাস দেয়া যায়। পাশাপাশি নিজস্ব ফিড মিলে দানাদার খাদ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। বিদেশ থেকে “আলফা আলফা হে” আমদানি করা হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত ধানের খড় সংগ্রহ করা হয়েছে। সকল খাদ্য উপাদান মিশ্রিত করে “টি এম আর” প্রস্তুত ও উহা গবাদি প্রাণিকে খাওয়ানোর জন্য “টি এম আর ওয়াগন” সুইডেন থেকে আমদানি করা হয়েছে।

সফল ভাবে বর্জ্য অপসারণের জন্য স্ক্রাপার আমদানি করার মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, গবাদি প্রাণির রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় টীকা বীজ সংগ্রহ, জীব নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।



এ প্রকল্পে দুধ, মাংস, চামড়া, জৈব সার, বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের আমিষের চাহিদা আংশিক ভাবে মেটানোর পাশাপাশি জাতীয় আয় ও স্বাস্থ্য উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি এই প্রকল্প গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে উন্নত জাতের গবাদি প্রাণি পালনে আগ্রহী করে তুলবে ফলশ্রুতিতে দুুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে একইসাথে গ্রামাঞ্চলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশ দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পুর্ণ হবে। যার মাধ্যমে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদ পূরণের পাশাপাশি দেশের সামাগ্রিক অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন কৃষি অর্থনীতিবিদগণ।