বুলবুলে ক্ষতি ২২ হাজার ৮শ ৩৬ হেক্টর জমির ফসল-কৃষি মন্ত্রী

ফোকাস ডেস্ক:বাংলাদেশ ভৌগলিক ভাবে প্রাকৃতিক দূর্যোগ প্রবণ এলাকা। বাংলাদেশ ঝড়ের দেশ। জলোচ্ছ্বাসের দেশ। ইতিহাসের বিভিন্ন সময় এই ভূখন্ডে ঘটে গেছে ভয়ংকরতম কিছু ঘূর্ণিঝড়। ইতিহাসের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে এগুলো তান্ডব চালিয়েছে আমাদের দেশে।

বিগত ৮-১০ নভেম্বর ২০১৯খ্রি. ঘূর্ণিঝড় ’বুলবুল’ দেশের উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চলের জেলা সমূহের উপর আঘাত হেনেছে। আঘাতের ফলে উপকূলীয় ও পার্শ্ববর্তী ১৬টি জেলার ১০৩টি উপজেলায় এর প্রভাব ফেলেছে এতে রোপা আমন,শীতকালীন শাক সব্জি, সরিষা,খেসারি, মসুর ও পান ফসলের আক্রান্ত হয়েছে। আবাদকৃত ২০ লাখ ৮৩ হাজার ৮শ ৬৮ হেক্টর জমির মধ্যে ২লাখ ৮৯ হাজার ০৬ হেক্টর (মোট আবাদকৃত জমির ১৪%) জমি আক্রান্ত হয়েছে এবং মোট ২২ হাজার ৮শ ৩৬ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে (মোট ৮%)। ফসল নষ্ট হয়েছে যার মূল্যমান ২শ ৬৩ কোটি টাকা।

আজ মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) কৃষি মন্ত্রী ড.মো: আব্দুর রাজ্জাক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর প্রভাবে ৯ হতে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী বিশেষত উপকূলবর্তী ১৬ টি জেলায় বিভিন্ন ফসলী জমি আক্রান্ত ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংএ এসব কথা বলেন। প্রেস ব্রিফিং এর শুরুতে ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।
 
কৃষি মন্ত্রী বলেন; আক্রান্ত জমির পুরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কোনো কোনো জমির ফসল আংশিক ক্ষতি হয়েছে। তবে ধানের বড় অংশটিই পরিপক্ক হয়ে উঠেছিল। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পুরো হিসাব আমরা দিতে পারব। প্রাথমিক প্রাপ্ত তথ্য মতে আক্রান্ত ১৬টি জেলা হচ্ছে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষীপুর। মোট ৫০ হাজার ৫শ ০৩ জন কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে।

ফসলের ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রোপা আমন ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫ শ ৭৪ হেক্টর; শীতকালীন সব্জি১৬ হাজার ৮শ ৮৪ হেক্টর; সরিষা ১হাজার ৪ শ ৭৬ হেক্টর; খেসারি ৩১ হাজার ০৮৮ হেক্টর; মসুর ১শ ৯৫ হেক্টর; পান ২হাজার ৬শ ৬৩ হেক্টর; অন্যান্য ফসল ৩ হাজার ১শ ২৬ হেক্টর।
 
কৃষি মন্ত্রী আরও বলেন; ঘূর্ণিঝড় এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য বর্ধিত প্রণোদনা কর্মসূচির প্রস্তাবনা অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে অতিদ্রুত প্রণোদনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি লোনের ব্যাপারেও বাংলাদেশ ব্যাকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় কার্য সম্পাদন করা হবে যাতে করে আক্রান্ত কৃষকদের ঋণের ব্যাপারে সহজ শর্ত দেয়।

প্রেস ব্রিফিংএ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: নাসিরুজ্জামান, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো: আরিফুর রহমান অপু, অতিরিক্ত সচিব(এফএমএম) হাসানুজ্জামান কল্লোল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড.মো: আব্দুল ম্ঈুদ, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক ড.মো: শাজাহান কবীর উপস্থিত ছিলেন।